Photo

Photo
mehadi kabir

উদ্ভট গল্প ০৮



পর্ব—০৮
স্বপ্ন কি? আর কেনি-বা এর আবির্ভাব হয় ? এনিয়ে ডিউক মাঝে মাঝেই ভাবে। কিন্তু এ রহস্যের জাল কিছুতেই ভেদ করতে পারে না। কেউ কেউ বলে ‘মানুষ যা কিছু ভাবে, কল্পনা করে, ঘুমের মধ্যে তার বহিঃ প্রকাশই হলো স্বপ্ন।‘ আবার কারো কারো মতে ‘অবচেতন মনের বিলাপই স্বপ্ন।‘ আবার কারো কারো মতে অবচেতন মনের বিলাপই স্বপ্ন। এদুটো ধারনার সাথে একমত ডিউক। কারণ মানুষের অন্তরে যা কিছু সুপ্ত অবস্থায় থাকে তারই আত্ম-প্রকাশ ঘটে সবপ্নের মাধ্যমে। কিন্তু তৃতীয় ধারাটি হলো, কিছু কিছু কথা, দৃশ্য বা প্রেক্ষে যা ব্যক্তি অন্তরে কখনো জন্মেই নি অথচ ঐরকম কোন অজানা বিষয়েও মানুষ স্বপ্ন দেখে । এটা কি করে সম্ভব ? কোন্‌ অনুঘটক এমনটি ঘটায় ? তাহলে স্বপ্নের পেছনেও কি কারো হাত আছে ? থাক ওসব কথা । স্বপ্ন বিশারদ হয়ে কাজ নেই । এক সময় ডিউক অনেক ধরনের বই পড়তো । বলতে গেলে এটা তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো । কিন্তু আজকাল সেটা আর হয়ে ওঠে না । হবেই বা কি করে ? জীবন যুদ্ধে ক্ষত বিক্ষত একজন মানুষ; জীবনের অনেকটা অন্তিম মুহুর্ত এখন । এমন সময়েও যথেষ্ট মাধা –মনন থাকা স্বত্বেও পারছে না একটা ভাল চাকুরী যোগার করতে । সংসার পরিজনের ভার বহনের ক্ষমতা যার নেই প্রায়, তার আবার বই পড়া ! গল্প শোনা ! তাছাড়া ইদানিং তার সংগ্রহে ভাল কোন বইও নেই । আসলে মন মানসিকতা ভাল থাকলে একজন মানুষের পক্ষে শত ব্যস্ততা থাকে স্বত্বেও শুধু বই পড়া কেন অনেক কিছুই করা সম্ভব । তখন শুধু শুধু অজুহাত কোন বাঁধা হতে পারে না । ডিউক এতো কিছু বুঝেও মাঝে মাঝে অবুঝ হয়ে যায় । জীবন অনেক কিছুরই প্রয়োজন আছে বটে কিন্তু তারও তো মাত্রা আছে, আছে সীমা-পরিসীমা ।


মায়েটা এই মাত্র স্কুল থেকে এসেছে । হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে বাবার পাশে এসে বসলো । ডিউক দুপুরের খাবার খেয়ে গাছ তলায় মোড়া পেতে বসে ছিলো । দুপুর গড়ে বিকেল হয়ে এসেছে । তবে সূর্যের তেজ তখনো কমেনি । হেমন্তের বিকেল সাধারণত এতোটা তেজদ্বিপ্ত থাকে না । কিন্তু কয়েকদিন হলো দিন বেশ গরম যাচ্ছে । হয়তো পৃথিবী বুড়ো হয়ে গেছে ! তাই কোন নিয়ম-কানুন ঠিক মতো মেনে  চলতে পারছে না । বুড়ো মানুষ যেমন রাগ, সময়েই শান্ত আবার সময়েই নিস্তেজ । হঠাৎ করে আবার কেন প্রকৃতির সাথে মানুষের তুলনা ? তাহলে কি প্রকৃতি ও মানুষের সাথে কিছুটা হলেও আচারনগত সদৃশ আছে ? হয়তো বা আছে । প্রকৃতি  যেমন সকালে নরম- কোমল- ঝলমলে, দুপুরে তেজদ্বিপ্ত, আবার বিকেলে আস্তে আস্তে তেজ কমে অস্তাচলে ঢলে পড়ে । একটু গভীর ভাবে দেখলে জীবনও ঠিক তাই । শিশুকাল অবুঝ- নরম- কোমল, যৌবন বলিষ্ঠ জোয়ান আর বৃদ্ধকাল বার্ধক্যে যৌবনের সমস্ত বলষ্ঠতা যেনো স্তিমিত হতে হতে একসময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে । এতো গেলো রূপরেখার কথা । আর ভাবের কথায় গেলে বলতে হয় প্রকৃতির সমস্ত আকাশ যেমন কখনো ছেয়ে যায় কালো মেঘে, কখনো বা ঝড়ো হাওয়া অশান্ত করে তোলে চারদিক । তেমনি চিন্তা- ভাবনা, দ্বিপ্তিহীন, অকমর্ন্য । ঝলমলে রোদ যেন জীবনকে হাসি-খুশি আর গুমটো মেঘ ও অঝোড় বৃষ্টি ধারা যেনো অভিমান ও কান্নাধারা আর শান্তনিবিড়তা যানো শুধুই নিরবতা।

মেয়েটা হঠাৎ নিরবতা ভেঙ্গে বলে উঠলো বাবা চলো না ওদিকটায় একটু হেঁটে আসি । ডিউক কোন কথা না বলে মায়ের হাত ধরে উঠে দাঁড়ালো ।




No comments

Thanks for message

Theme images by merrymoonmary. Powered by Blogger.