উদ্ভট গল্প ০৯
প্রায় মাঝ রাত ।
ডিউকের পাশে স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সবাই ঘুমিয়ে আছে । শুধু ঘুমাতে পারছেনা ডিউক । চোখ
বন্ধ করে ঘাপটি মেরে বিছানায় পড়ে আছে , ভাবছে । মেয়েটা বড় হচ্ছে । এক সময় ওকে বিয়ে
দিতে হবে । ছেলেটাকে মানুষ করতে হবে । নিজেরাও বুড়ো-বুড়ি হয়ে যাচ্ছি । অভাবের
সংসার । অবম্বনটা কি হবে ? রাজ্যের চিন্তা ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত-শ্রান্ত ডিউক এক
সময় ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যায় । মুহুর্তে কালো মেঘের মতো দলবেঁধে স্বপ্নরা এসে ছেঁয়ে
ফেলে ডিউকের সমস্ত হৃদয় আকাশ । বেশ কিছু লোক একটা মেয়েকে ঘিরে হৈ চৈ করেছে । ডিউক
এগিয়ে যায় । হেনেরাকে কেন্দ্র করেই এতো সব । ছিঃ ছিঃ ছিঃ ! হ্যাঁ, অপরাধী কোন না
ভাবে তার পদচিহ্ন রেখে যায় । আর সেই সূত্রই তাকে নিঃশ্বেষ করে দেয় । প্রকৃতি তার
নিজস্ব গতিতেই চলে । সে কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করে না । তাছাড়া ডিউক হাসপাতালের
গেটে যে দৃশ্য নিজের চোখে দেখেছে তাকেই বা সে মিথ্যা প্রমাণিত করবে কিভাবে? এতো
কিছুর পরও ডিউক এগুলোকে বিশ্বস করতে পারছে না। কিন্তু ডিউকের বিশ্বাস – অবিশ্বাসে
তো আর কারো কিছু এসে যায় না । সমাজ সংসার তার গতানুগতিক নিয়মে নিজেস্ব গতিতেই চলে
। প্রকৃতির কি নির্মম পরিহাস ! মনের বিরুদ্ধে হলেও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসান
ঘটে । মুহুর্তেই ডিউক আর হেনেরা হয়ে যায় পৃথিবীর দুই প্রান্তের বাসিন্দা । এখন কি
হবে হেনেরার ? কেমন হবে অবুঝ বাচ্চা দুটোর অনাগত ভবিষ্যৎ, আর ডিউকেরই বা কি হবে
হেনেরার ? আচমকা মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে প্রিতমের । মা ডাকছে । সকাল হয়েছে। হাতমুখ
ধুয়ে নাস্তা খেতে হবে । স্কুলে যেতে হবে। প্রিতম ঘুম থেকে উঠে অনেক্ষণ নিজেকে
আয়নায় দেখলো । নাহ্, হাত-পা, চোখ-মুখ, চুল কিছুতেই কোন মিল নেই । শরীরে চিমটি
কাটলো । হ্যাঁ, অনুভূতি ঠিকই আছে। তাহলে সে কি ডিউক নয় ! সে কি ক্লাস নাইনে পড়া
একজন কিশোর ! তাহলে ‘ও’ কি স্বপ্ন দেকছিলো ? স্বপ্নের মাঝে স্বপ্ন ! এও কি সম্ভব
!!!
সমাপ্ত


No comments
Thanks for message