উদ্ভট গল্প ০৬
পর্ব---০৬
এগার বছরের মাথায়
হেনেরার কোল জুড়ে এসেছে দ্বিতীয় সন্তান। এবারেরটা পুত্র সন্তান। বয়স এক মাস। দেখতে
ঠিক বাবার মতোই হয়েছে। হেনেরাতো খুশীতে আটখানা। সারাক্ষণ তাকে নিয়ে কল্পনা-
জল্পনা। তার হৃদয়ে আজন্ম লালিত স্বপ্ন আজ পরিণতিতে রূপ নিয়েছে। সে আজ সফল। সেই
সফলতায় গৌরবে যেন ছুটে চলেছে স্বপ্নীল সুখের স্রোতধারা বেয়ে আগামী গন্তব্যের পানে।
এদিকে অভাবের সংসার। কেমন হবে শিশুটির ভবিষ্যৎ? দুচোখে অন্ধকারের ছাপ নেমে এলেও
আনন্দরে শেষ নেই। প্রাপ্তির আনন্দ। আজকাল তাকে ঘিরেই যতো চিন্তা, যতো কথা। ---
আমার সোনা কইরে, আমার জানু- আত্মা কইরে, আমার মনের মাধুরী কইরে --- ইত্যাদী
ইত্যাদী। মাঝেমাঝে হেনেরাও আশ্চর্য হয়। সে এতো কথা কোথায় শিখলো? নেই কোন অনুশীলন,
নেই কোন প্রশিক্ষণ, অথচ অবলীলায় মনের অজান্তেই বলে চলেছে কত কথা, কত গল্প, কত
আখ্যান! যেখানে স্বামীকে কোনদিন মন খুলে কোন কথা বলতে পারে নি, আজ সে-ই কিনা এক
দমে রাজ্যের সব কথা বলতে পারে। নাকি সে- ও ডিউকের মতো-----।
আৎকে ওঠে হেনেরা। ডিউকের সাথে তুলনা ? না—সে আর হয়না। ডিউক আর
তার মাঝে আকাশ পাতাল ফারাক। সে একজন সফল স্বার্থক নারী। আর ডিউক? কি আছে তার ? হঠাৎ
যেন আত্ম-অহংকারে হেনেরার হৃদয় দুলেদুলে ওঠে। তৃপ্ত হতে থাকে বারংবার । কথায় যাই
বলুক না কেন তাতে কিছু এসে যায় না; কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হেনেরা সিদ্ধহস্ত।
পারিবারিক শিক্ষাই মানুষকে প্রাথমিক জ্ঞান দান করে। এয়াবৎ হেনেরা স্বামীকে শুধু
এড়িয়েই চলেছে। পরিণাম যাই হোক না কেন
নিজের জীবন সাজাত কার না ইচ্ছা করে? তাই তো এমন সব উদ্ভট চিন্তা। কিন্তু প্রশ্ন
হলো হেনেরা আদৌ কি নিজে সুখী হতে পেরেছে, না অন্য কাউকে সুখী করতে পেরেছে? হেনেরা
হয়তো জানেনা কুলষিত পথ কখনো মানুষকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি, পারবেও না কোনদিন।
ছোট ছোট বিষয় মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যেতে
পারে। যখন একটা সময় ছিলো হেনেরা ডিউককে অনেক গল্প শোনাতো। তার পছন্দ- অপছন্দ সব। এই
ধরো যমজ কলা , গরুর চর্বি, চাপা চাপা নারকেলের মালাই খাওয়া আরো কত কি? আবার টাকা না থাকলে চালের বদলে মালাই কিনতো। কেমন সব কন্ডই না করতো। অবশ্য
এখনো পর্যন্ত সে অভ্যাস রয়েই গেছে। তাইতো সুযোগ পেলেই কাঠের সিন্দুক থেকে নিয়ে
বদলে মালাই খায়। পরিণামে পেটে পিলাই হবে নাতো? ঠান্ডা লাগবে না তো? ঠান্ডা লাগবে
না তো? আরে ডাক্তার আছে না? হেনেরা এসব কি চিন্তা করছে? সেও কি ডিউকের মতো উন্মাদ
হয়ে যাচ্ছে? এইতো গত রাতে স্বপ্ন দেখলো কারা যেন ডিউককে গুলি করেছে। বুকটা একেবারে
ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। অথচ কি আশ্চর্য! ডিউককে মুখটা তখনো কেমন হাসি- খুশী- নিটল। মরা
মানুষের মুখ কি কখনো এমন স্নিগ্ধ থাকে? হেনেরা যেন খুব পুলকিত হয়েছিলো তখন। কিন্তু
এখন ওসব ভাবতে গিয়ে কেমন আতকে উঠলো। স্বামীর মৃত্যও কি কারো কাম্য! নাহ, সে এমন
দুঃস্বপ্ন নিয়ে আর ভাববে না।


No comments
Thanks for message