উদ্ভট গল্প ০৩
পর্ব---০৩
ইদানিং দু একাটা প্রয়োজনীয়
কথা ছাড়া তেমন কোন কথা হয়না হেনেরা- ডিউকের মধ্যে। রাজ্যের সমস্ত নিরবতা নেমে আসে ওদের
মধ্যে। সামাজিকতা নিয়ন্ত্রণেও অর্থের কোন বিকল্প নেই। অবশ্য ডিউক এতো দিনে জেনে গেছে
তাকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কারা দায়ী। কারণ অর্থ থাকলে কারো দারস্ত
হতে হয়না, মনোবল অটুট থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। এতে ডিউকের কোন মাথা ব্যাথা ছিলোনা। কিন্তু
সে যখন জানতে পারলো এতে হেনেরারও হাত ছিলো এবং এও জানতে পারলো সে এতো দিন তাকে মরা
প্রাণীর মাংস খাওয়াতো এটা কি করে একজন মানুষের পক্ষে সম্ভব ! তাহলে তো কোথাও কোন চক্কর
চলছে । ব্যাপারটা ডিউককে রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে। আর এই যোগাযোগ সূত্র জানার জন্যই ডিউকের
প্রয়াস ছিলো সুদূর প্রসারী। হিংসা- বিদ্বেষ, লোভ- লালসা ক্ষমতা পিপাসা- এগুলো মানুষকে
অন্ধ করে। কিন্তু নিঃস্ব হওয়ার দিকে ইচ্ছাকৃত ভাবে ধবিত হওয়ার কোন কারণ আছে কি? নিজের
সুখ- শান্তি, বৈধ্য অধিকার- এসব থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার কোন অর্থ আছে কি? ‘ও’ এমন
সাহায্যকারী কেমন করে হলো । যেন নেশা রক্তে মিশে গেছে! অনশ্য এর পেছনেও আছে বড় কোন
রহস্য, বড় কোন শ্বার্থ হাসিলের অভিপ্রায়- যাক
কিনা শিল্পীর নিপুন হাতের ছোঁয়ায় বীনার সূক্ষন তারে ঝংকৃত সুরের মূর্ছনায় অনুধাবন করা
সম্ভব ! সেই পথ ধরে গুটি গুটী পায়ে এগিয়ে যাওয়া অথবা কাউকে যেতে দেখার আহবান। কিন্তু
অন্তর অবুঝের তালে মিশে যায় । বোঝেনা যে শিল্পী স্বত্বারও একাটা ধারাবাহিক ও গতানুগতিক
নিয়ম আছে , আর তা হলো- ‘তুমি যদি বাক বা মুখ শিল্পী হও, আমি হবো যন্ত্র শিল্পী । তুমি
যন্ত্র শিল্পী হলে পৃথিবীর সম্ভাব্য সকল শিল্পস্বত্বা পুঞ্জিভূত হবে আমার অন্তরে। পূর্ণতার
আনান্দে পুলকিত হবে হৃদয়।‘ কারণ আমিযে তোমার পরবর্তী প্রজন্ম। এটাই বাস্তবতা, এটাই
পৃথিবীর চিরাচিরিত নিয়ম । এর ফল্পুধারা চির বহমান , চির ভাস্বর । একে রোধ করার ক্ষমতা
তোমার- আমার কোদিন ছিলোনা, নেই, থাকবে না। তবে সে ধারাকে সত্য – সুন্দর – কল্যাণের
পথে ধাবিত করার প্রয়াসই হবে প্রকৃত প্রয়াস। ডিউক এসব কি আবোল- তাবোল বকছে ! মানুষের
চিন্তার কি কোন অবসর নেই ? তার ধর্ম কি বিরামহীন কেবলই বয়ে চলা? চিন্তারও কি কোন তাল
–ল্য় -সুর আছে ? বালুকাময় তটে খেয়ালী যুবকের গিটার যেমন সুস্পষ্ট তাল- লয়ে মেনে সুরের
দোলায় হৃদয়কে দোলায়ত করে ? অথবা তানপুরার তারে যেমন সন্ধ্যা রাগের মোহিনী সুর আত্মাকে
পৌছে দেয় স্বর্গের সোপান ? তবে কেন এর ব্যতায় ঘটে ? তুমি কি জ্ঞানপাপী ? নাকি কোন এক
মহলকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে স্বাচ্চাকে হাতে নিয়েই অপশিক্ষা আর অন্যায় কাজে সমাজকে
উৎসাহিত করেছিল , অতি গোপনে- সংগোপনে ? স্বাধিন – সার্বোভৌম রাষ্ট্রকে কোলুষিত করার-
শক্তি ‘ও’ পায় কোথাথেকে ? নিশ্চয় তোমার গঠিত যত্নর পায়রা প্রধান ! নয়কি ? তুমি ভাবো, শিল্পের জগতে তুমিই শ্রেষ্ঠ , তুমিই
অদ্বিতীয় !

No comments
Thanks for message