উদ্ভট গল্প ০২
পূর্বে .........
পর্ব---০২
সময় গড়িয়ে কোথায় এসে
দাঁড়িয়েছে একটুও ভাবেনি ডিউক। চিন্তার সাগরে যেন ভেসেই চলছে। হঠাৎ খেয়াল হলো, দুপুর
গড়িয়ে বিকেল হয়েছে অনেক্ষেণ। পার্কের বেঞ্চ থেকে উঠে হাঁটতে শুরু করলো। আবার চিন্তার
শ্রোত তার মাথায়। লানী- লচ- পীত্রাভ’ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ চলছে। চাকরীটা হলে
উপার্জনও একটু বাড়বে আর কিছুটা শান্তিও পাবে সে। কিন্তু সেই টাই- রারাজ? এতো দূরে কে
খোঁজ রাখে। তাই সে মনে মনে হতাশ হয়। ছুটির দিন গুলোতে এই পার্কে যায় ডিউক। নির্জন কোন
বেঞ্চে বসে ভেসে চলে চিন্তার অথৈ সাগরে। -ইদানীং হেনেরা মাঝে মাঝে আমাকে মাংস খাওয়ায়।
ভালবাসার টান বড় শক্ত টান। হেনেরাকে এক মহৎ প্রান নারী বললেও বেশী হবেনা। অল্প আয়ের
মাঝেও কখনও কখনও এমন সব ম্যানেজ করে ডিউক অবাক না হয়ে পারে না। এছাড়া ওর আর কি-ই-বা যোগ্যতা
সমর্থ আছে ? তাতো এখন শুধুই সোনালী অতীত। এটাই কি পরিবারের জন্য কম মর্যদার ? সত্যই হেনেরাকে পেয়ে ডিউক খুশি অনেক সুখী। পাশে হঠাৎ শুকনো পাতার মরমর শব্দ হওয়ায় ডিউকের চিন্তায় ছেদ পড়লো। চেয়ে দেখে একটা সাপ ব্যাঙ ধরেছে।
কিছুক্ষন পর আস্ত গিলে ফেললো। কি অদ্ভুত এ পৃথিবী। দুর্বল সবলের খাদ্য। হেনেরাও এক
দিন ডিউককে ইয়ারকি করে কাঁচা মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিল। আবার পেঁপের মধ্যে মিষ্টি
কুমড়া! কিযে খামখেয়ালী করেনা? খেলে কি তার অসুখ করতো। অবশ্য ডক্তার তো ছিলোই। আসলে
একজন মানুষ যতো জ্ঞানী –গুনীই হোক তার কৃষ্টি কালচার যতো উচুই হোক না কেন তাকে সুষ্ট
ভাবে চালানোর জন্য সিংহভাগই নির্ভর করে অর্থের মানদন্ডের উপর। হয়তো অভাবের মধ্য থাকতে
থাকতে হেনেরা মনে মনে বিরক্ত ছিলো, তাই এমনটি করেছে । আসলে ছিঃ ছিঃ এসব কি বাজে চিন্তা
করেছে ডিউক! কোন মানুষই পৃথিবীতে স্বয়ং- সম্পূর্ণ হয়ে জন্মে না। আস্তে আস্তে সব কিছু
অর্জন করে নিতে হয়। তাদেরও হবে হয়তো । ভাবতে ভাবতে এক সময় সে বাসার দোর গোড়ায় এসে পৌছে।
চটের ব্যাগটা কাঁধে থেকে নামিয়ে হাতে নেয়। ওতে কিছু মাগুর মাছ আছে। রাস্তায় ভদ্রলোক
ব্যাগটা ধরিয় দিলেন। ডিউক সযত্নে তুলে দিলো হেনেরার হাতে। মাছ দেখে হেনেরাতো মহা খুশী।
হেনেরার অনেক দিনের সাধ তাজা তাজা মাগুর মাছ কিমা করে খাবে। আগেতো বাবার বাড়িতে প্রচুর
খেত। তাই খুশীতে ওর দম প্রায় বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম। দেখে মনে হয় আনান্দের চেয়ে গর্বই
বেশি হচ্ছে। ডিউক ব্যাপারটা বুঝতে পেরে কোনক্রমে ওকে শান্ত করে বললো, এতো খুশী হয়োনা,
ওগুলো আমাদের নয়, পাশের বাসার আপার। অতঃপর ব্যাগটা নিয়ে পাশের রুমে দিয়ে এলো। আজ রাতের
খাবার আমার বেগুন ভর্তা করে খেয়ে নেবো। হেনেরা কোন জবাব দিলো না, শুধু নিচের দিকে দৃষ্টি
করলো।

No comments
Thanks for message